জামাইকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করলেন শাশুড়ি
৬ হাজার ৩১৪ দিনের অপেক্ষা শেষে ঢাকায় পৌঁছালেন তারেক রহমান
তারেক রহমান দেশে ফেরা, বিএনপি রাজনীতি, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন, অর্থাৎ প্রায় ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকায় পৌঁছালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন ও আনুষঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারেক রহমান। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর দলের প্রধান নেতৃত্বকে দেশে ফিরে পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
পরিবারের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে তারেক রহমান প্রথমে কুশল বিনিময় করেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে। দীর্ঘ সময় পর জামাইকে দেশের মাটিতে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বিমানবন্দরেই ফুলের মালা দিয়ে শাশুড়ি বানু তারেক রহমানকে বরণ করে নেন, যা উপস্থিত অনেকের কাছেই ছিল একটি মানবিক ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত।
তারেক রহমানের সঙ্গে এ সময় তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। পরিবারকে একসঙ্গে দেশে ফিরে পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
লন্ডন–সিলেট–ঢাকা: যাত্রাপথের বিস্তারিত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সূত্র অনুযায়ী, বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত বিজি-২০২ ফ্লাইটটি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সিলেটে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে। ফ্লাইটের পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিচালনায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
২০০৭–০৮ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেন তারেক রহমান। এই সময়ে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, নির্বাচন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অধ্যায় অতিক্রম করে বাংলাদেশ। বিদেশে থাকলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সরাসরি দেশে ফেরা বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা আগেই বিমানবন্দরে অবস্থান নেন এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উপসংহার
৬ হাজার ৩১৪ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী ঘটনা। সামনে তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসূচি কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।
Source: Based on reporting from Bangladesh Biman sources, BNP leaders, and local media updates
