শাহজালাল বিমানবন্দরে ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যারা
তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা
তারেক রহমান প্রত্যাবর্তন, বিএনপি নেতৃত্ব, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্ত্রী ও কন্যাসহ দেশে ফিরছেন—এই উপলক্ষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বিমানবন্দর এলাকায় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এই উপস্থিতি বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ একাধিক সিনিয়র নেতা। তারা সবাই তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে সেখানে অবস্থান করছেন।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এটি কেবল সৌজন্যমূলক উপস্থিতি নয়; বরং দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাচ্ছেন তারা।
লন্ডন থেকে ঢাকায় ফ্লাইটের যাত্রাপথ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সপরিবারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২-এ দেশে ফিরছেন।
বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯০০ মডেলের এই উড়োজাহাজটি লন্ডন হিথ্রো–সিলেট–ঢাকা রুটে পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় পৌঁছানোর আগে বিমানটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি দেবে।
নিরাপত্তা ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা
বিমান সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটে উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী থাকার কারণে পরিচালনায় বিশেষ সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ফ্লাইট অপারেশন, ককপিট ক্রু নির্বাচন এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, তারেক রহমানের জন্য উড়োজাহাজে বিশেষভাবে A1 সিট বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া পুরো যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতাদের সরাসরি বিমানবন্দরে উপস্থিতি এই প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করছে।
বিএনপি নেতাদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা বিন্দু।
উপসংহার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী ঘটনায় রূপ দিয়েছে। এখন নজর সবার—ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমানের বক্তব্য ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে।
Source: Based on reporting from BNP sources, Bangladesh Biman officials, and local media reports
