যাকে আসন ছেড়ে দিয়ে সরে গেলেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ও দৈনিক আমার দেশ-এর আবাসিক সম্পাদক অলিউল্লাহ নোমান। তাঁর সরে দাঁড়ানোর ফলে এই আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদের নির্বাচন করবেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে অলিউল্লাহ নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে প্রত্যাহারের ঘোষণা
অলিউল্লাহ নোমান তাঁর পোস্টে জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি লেখেন, আমিরে জামায়াতের আহ্বানে তিনি এই আসনে নির্বাচন করতে সম্মত হয়েছিলেন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম কাকতালীয়ভাবে। সংগঠনের সর্বস্তরের ভাই-বোন, শুভাকাঙ্ক্ষী, ছাত্র ও যুবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং নিঃস্বার্থ সহযোগিতা আমি আজীবন স্মরণ রাখব।”
জোট রাজনীতির বাস্তবতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অলিউল্লাহ নোমানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার মূলত বৃহত্তর জোট সমঝোতার অংশ। আসন বণ্টন নিয়ে সমমনা দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসনটি খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামের সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও জোট প্রার্থীর মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব
হবিগঞ্জ-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ব্যক্তি পরিচিতি, সাংগঠনিক শক্তি এবং জোট সমর্থন বড় ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অলিউল্লাহ নোমান সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে জোট প্রার্থীর পক্ষে তাঁর সরে দাঁড়ানো ভোটের হিসাব নতুনভাবে সাজাতে পারে।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
নিজের পোস্টে অলিউল্লাহ নোমান সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনী প্রচার যত এগোবে, জোট প্রার্থী অধ্যাপক ড. আহমদ আব্দুল কাদেরের পক্ষে জামায়াত ও সমমনা দলের সমর্থন কীভাবে মাঠে কাজ করে, সেটিই এই আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Source: Based on reporting from Amar Desh
