জামায়াত প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন হাসনাত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমার শেষ দিনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে রাজনৈতিক জোটের নতুন সমীকরণ প্রকাশ্যে এলো। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহিদ। এই ঘটনাকে এনসিপি ও জামায়াতের সদ্য ঘোষিত জোটের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তাঁর সঙ্গে জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জোট সিদ্ধান্তের প্রতিফলন

মনোনয়ন জমার সময় জামায়াত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহিদের উপস্থিতি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের কারণে কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। ফলে নিজেদের প্রার্থী না দাঁড় করিয়ে জোট শরিককে সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়।

সাইফুল ইসলাম শহিদ জানান, জোটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেবিদ্বার আসনে জোট রাজনীতির বাস্তব প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।

সংবাদ সম্মেলন ও পটভূমি

এর আগে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সমমনা আট দলসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে জোট গঠনের ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরপরই সাইফুল ইসলাম শহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।

এই জোট ঘোষণার ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন হিসাব শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী ছিল, সেখানে জোট প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেবিদ্বারে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই রাজনীতিকের বিপরীতে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়বেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ফলে এই আসনে মূলত বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতের সমর্থন পাওয়া এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠনিক কাঠামো ও সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির ব্যক্তিগত ভোটব্যাংকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনী মাঠে বার্তা

মনোনয়ন জমার এই দৃশ্য নির্বাচনী মাঠে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—জোট রাজনীতি এবার কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, দেবিদ্বারসহ আশপাশের এলাকায় এই জোটের প্রভাব কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement