বিয়ের মঞ্চে হাদি হত্যার বিচার চাইলেন ফরহাদ-মহিউদ্দীন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর শীর্ষ দুই ছাত্রনেতার বিয়ে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় দাঁড়িয়েও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মহিউদ্দীন খান। ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই প্রতিবাদী অবস্থানকে অনেকেই প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছেন।

বিয়ের মঞ্চে ‘জাস্টিস ফর হাদি’ বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, বরের সাজে এসএম ফরহাদ ও মহিউদ্দীন খান হাতে ধরে আছেন ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড। ছবিটি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের অনেকে এটিকে চলমান বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।

এই ছবিটি শেয়ার করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি তার পোস্টে ডাকসুর এই দুই নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনেও তারা শহীদ হাদির বিচার দাবি থেকে সরে আসেননি।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ছাত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সামাজিক পরিসরে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গেছে। তবে সময় গড়ালেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ও হতাশা রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফরহাদ ও মহিউদ্দীনের বিয়ের মঞ্চে প্রকাশ্য বিচার দাবিকে অনেকেই চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে দেখছেন। ছাত্ররাজনীতিতে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানের এই মেলবন্ধন বিরল বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

ছাত্ররাজনীতিতে প্রতীকী বার্তার গুরুত্ব

ডাকসু নেতারা অতীতেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব ভূমিকা রেখেছেন। তবে বিয়ের মতো ব্যক্তিগত আয়োজনে একটি রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরা ছাত্ররাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এটি দেখাচ্ছে যে, ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি তাদের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গেও যুক্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং বিচার দাবির আন্দোলনকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নৈতিক চাপ তৈরি করে।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ফরহাদ ও মহিউদ্দীনের এই অবস্থানকে সাহসী ও মানবিক বলে প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের বার্তা ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতির ভাষা ও কৌশলকে আরও প্রতীকী ও মানবকেন্দ্রিক করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাদি হত্যার বিচার দাবি কেবল একটি মুহূর্তের ঘটনা নয়; এটি চলমান বিচার দাবির আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যক্তিগত আনন্দের মধ্যেও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সামনে এনে ফরহাদ ও মহিউদ্দীন দেখিয়েছেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা পেরিয়েও জায়গা করে নিতে পারে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement