তারেক রহমানের ফ্লাইট ছাড়বে মধ্যরাতে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বুধবার মধ্যরাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর তার এই যাত্রাকে বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেশে ফিরছেন।

ফ্লাইট সূচি ও যাত্রাপথ

সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি লন্ডন থেকে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে ছেড়ে আসবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা ইনশাআল্লাহ নির্ধারিত সময়েই দেশে পৌঁছাবেন।”

এই যাত্রায় তারেক রহমানের সঙ্গে তার পরিবারের একাধিক সদস্য থাকবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট, কোনো বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়।

ঢাকায় অভ্যর্থনা ও কর্মসূচি

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকায় পৌঁছানোর পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সড়ক পথে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাবেন।

পথিমধ্যে রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র বলছে, সেখানে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মসূচির ধরন নির্ধারিত হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যেই তার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির কৌশল নির্ধারণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টি

তারেক রহমানের দেশে ফেরার খবরে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে, মধ্যরাতে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের যাত্রা এবং সকালে দেশে পৌঁছানো বিএনপির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রবাহেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement