শহীদ হাদির পর কার নাম আসবে জানি না: রুমিন ফারহানা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদির ঘটনার পর ভবিষ্যতে কার নাম যুক্ত হবে—তা তিনি জানেন না। তার মতে, নির্বাচন বানচাল করতে যেমন পতিত স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয়, তেমনি দেশের ভেতরেও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুল্লা আবর আলী বাজার খেলার মাঠে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায়।
শহীদ হাদির জানাজা ও রাজনৈতিক বার্তা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুমিন ফারহানা শহীদ ওসমান হাদির জানাজার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ঢাকায় তার জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল, যা জনমনে গভীর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। তার ভাষায়, “ওসমান হাদির পর কার নাম আসবে, আমি জানি না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার দিকটি তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।
নিজের নির্বাচন ও পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস
নিজের নির্বাচন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি জানেন না “বাপের মতো বেটিরও কপাল আছে কি না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তার বাবা ১৯৭৩ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তার অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং শেখ মুজিবুর রহমান তার বাবাকে সেই বিজয়ের পূর্ণ স্বীকৃতি দেননি।
রুমিন ফারহানা বলেন, স্বতন্ত্র হলেও তখন জনগণ ভুল করেনি—এই ইতিহাস থেকেই তিনি রাজনীতিতে জনগণের রায়ের গুরুত্ব বিশ্বাস করেন।
মনোনয়ন ও ভোটারদের ভূমিকা
মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মনোনয়ন আমি কিনব না। এটি আমার এলাকার ভোটারদের মনোনয়ন।” তার মতে, জনগণ চাইলে তাকে নির্বাচনে দাঁড় করাবে, অন্যথায় তিনি চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তিনি আরও বলেন, তিনি সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকার মানুষ এবং এখানকার জনগণের মতামতই তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও অস্ত্র প্রসঙ্গ
নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে ফল ঘোষণা পর্যন্ত সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রার্থীদের অস্ত্র দেওয়ার কথা বলা মানে মব বা সহিংস গোষ্ঠীকে এক ধরনের আইনগত বৈধতা দেওয়া। তার মতে, এটি দেশের জন্য “অত্যন্ত দুঃসংবাদ”।
নিরাপত্তা নিয়ে ব্যক্তিগত অবস্থান
নিজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি এত মানুষ ও সহকর্মী থাকা সত্ত্বেও কেউ নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে সেটিকে তিনি আল্লাহর ফায়সালা হিসেবে মেনে নেবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন প্রার্থীর ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. মালু মিয়া। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
