হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সিলেটে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে উঠে আসে, হাদি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে জনমনে অনাস্থা তৈরি হবে এবং অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে।
তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি
বিক্ষোভ থেকে ইনকিলাব মঞ্চ তিন দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা, তদন্তে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেতরে অপরাধে জড়িত বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
দায় ও জবাবদিহির প্রশ্ন
কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাই তারা ব্যর্থতার দায় নিয়ে জনগণের কাছে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তাদের মতে, কোনো বড় অপরাধের পর দায়িত্বশীলদের স্বচ্ছ অবস্থান ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এ কারণেই তারা প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
বক্তব্য ও অংশগ্রহণ
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চ শাবিপ্রবি শাখার দপ্তর সম্পাদক শোয়েব আহমেদসহ মুস্তাফিজুর রহমান, রাকিবুত তাওহীদ ওয়াফি, মহররম মুদ্রা প্রমুখ। তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং দ্রুত বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ না হলে তা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য ক্ষতিকর হবে। তাই এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার ঘিরে জনআন্দোলন বাড়ছে। এসব আন্দোলন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সিলেটে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার কীভাবে এবং কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার ওপর নির্ভর করবে এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। আপাতত বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
