তারেক রহমানের কাছে মোদির চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন জয়শঙ্কর, যা লেখা আছে এতে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই সময় তিনি বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি চিঠি পৌঁছে দেন, যা বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ও খালেদা জিয়ার অবদানের প্রশংসায় ভরা।

চিঠিতে মোদির প্রশংসা

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে মোদি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের জুনে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও আলোচনার স্মৃতি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মনে আছে। তিনি খালেদা জিয়াকে “এক বিরল সংকল্প ও দৃঢ় বিশ্বাসের নেতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মোদির ভাষ্য, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার গৌরব ও নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অপূরণীয় শূন্যতা, চিরন্তন আদর্শ

মোদির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তার স্বপ্ন ও আদর্শ চিরকাল অম্লান থাকবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার আদর্শগুলো এগিয়ে নেবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে তার আদর্শ আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

শোকের মুহূর্তে সহমর্মিতা

চিঠিতে মোদি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন, যাদের ইতিহাসে অসাধারণ শৌর্য ও মর্যাদার পরিচয় আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশি জনগণ তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও জাতীয় ঐক্যের বোধের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে।

সমর্থন ও শুভকামনা

মোদির চিঠির শেষাংশে লেখা রয়েছে, “আপনি আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য প্রদান করেন। আপনার ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য আমার শুভকামনা রইল।”

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য

ঢাকায় এমন সময় মোদির চিঠি পৌঁছানো কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতি ইতিবাচক বার্তা প্রেরণের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from India Today and Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement