রাতভর শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাতভর অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শাহবাগে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার দিকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ ছাড়বেন না।

শাহবাগে অবস্থান, বন্ধ যান চলাচল

জুমার নামাজ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবরোধের প্রভাব পড়ে ল্যাবএইড, মৎস্য ভবন ও বাংলামটরমুখী সড়কগুলোতে। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

দেশব্যাপী কর্মসূচির আহ্বান

এর আগে শুক্রবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা এবং হত্যার বিচার দাবিতে বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া ও বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, শাহবাগের এই অবস্থান কর্মসূচি শুধু একটি স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হাদি হত্যার বিচার আদায়ের বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ।

শরিফ ওসমান হাদি: সংক্ষিপ্ত পরিচয়

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রাতভর শাহবাগ অবরোধের ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Desh TV

Next Post Previous Post

Advertisement