রেলস্টেশন দখল করে ‘অফিস’ বানানো কক্ষ সিলগালা করলো রেলওয়ে কর্তৃপক্
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত কক্ষটি অবশেষে সিলগালা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়ভাবে আলোচিত এই কক্ষটি মাসখানেক ধরে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতার ‘অফিস’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সংবাদ প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রেলওয়ে পদক্ষেপ নেয়।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের একটি বিশেষ দল কক্ষটি সিলগালা করে দেয়। অভিযুক্তভাবে কক্ষটি দখলে রেখেছিলেন মতিহার থানা শাখার এক রাজনৈতিক নেতা। দিনের বেলায় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর সেখানে নেতাকর্মীদের আড্ডা, সভা-সমাবেশ চলে আসছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
১৫ জুলাই একটি জাতীয় গণমাধ্যমে ‘রেলস্টেশনের কক্ষ দখল করে বিএনপি নেতার অফিস’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় জোরালো আলোচনা-সমালোচনা। এরপরই নড়েচড়ে বসে রেল কর্তৃপক্ষ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন স্টেশনবাজার এলাকায় অবস্থিত এ স্টেশনটি একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চালু হলেও বর্তমানে সেখানে খুব কম ট্রেন থামে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা স্টেশনটির একটি কক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ওই নেতা নিজের ‘দলীয় কার্যালয়’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্টেশন এলাকার দোকানিরা জানান, “সংবাদ প্রচারের পর ওই নেতা ও তার লোকজন কক্ষে আসা প্রায় বন্ধ করে দেন। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে রেলওয়ের লোকজন এসে তালা লাগিয়ে কক্ষটি সিলগালা করেন।”
রেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, “সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সরেজমিন তদন্ত করি। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে কক্ষটি সিলগালা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।” তাঁর ভাষায়, “কে বা কারা কক্ষটি দখল করেছিল, তা তদন্তাধীন। বিস্তারিত জানা গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত রেলওয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা স্টেশন এবং সরকারি সম্পত্তি এভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন আপনি? আপনার মতামত জানান মন্তব্যে।
