“আবারও গোপালগঞ্জে যাবো”—সুপ্ত আগুনের বার্তা দিলো এনসিপি

গোপালগঞ্জে ফের কর্মসূচির ঘোষণা দিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক এক সামাজিক পোস্টে বলেন, “আমরা আবারো গোপালগঞ্জে যাবো।” গত সংঘর্ষ, নিহতদের স্মরণ ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে দলটি ফের মুখ খুললো—এক শক্ত বার্তায়।

নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, গোপালগঞ্জ নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট, “পুরা বাংলাদেশের প্রতি আমাদের যে কমিটমেন্ট, গোপালগঞ্জের প্রতিও আমাদের সে কমিটমেন্ট।” তাঁর ভাষায়, “গোপালগঞ্জের অধিবাসীদের প্রতি রাজনৈতিক বৈষম্য আমরা বিরোধিতা করি।”

পোস্টে আরও দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের যুগের পর যুগের শাসনে গোপালগঞ্জবাসীর জীবন বিপন্ন হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কলুষিত হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে অবিচার হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা বলেছি, আমরা এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবো।”

এনসিপি নেতার অভিযোগ, ৫ আগস্টের পরেও অনেকেই ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রতিষ্ঠার কথা বললেও, “আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন।” তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেভাবে আক্রমণ হয়েছিল, গোপালগঞ্জেও একই কৌশলে হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের আহ্বান নিয়ে যাই নাই, আমাদের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। কিন্তু মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালায়।”

সাম্প্রতিক সহিংসতায় চারজন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “আমরা কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করি না, প্রত্যাশাও করি না। সন্ত্রাসীদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। তিনি বলেন, “প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে আছে ফ্যাসিবাদের দোসর ও দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যাদের টাকা দিয়ে কিনে ফেলা যায়।” তাঁর অভিযোগ, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় গোপালগঞ্জে অবস্থান করছিল।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না যদি প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ নিত।”

এনসিপি আহ্বায়ক স্পষ্ট বার্তায় বলেন, “আমরা গেছি এবং শহীদের রক্তের শপথ নিয়ে ঘোষণা করছি, মুজিববাদকে গোপালগঞ্জ ও বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়াতে দিবো না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায়, প্রতিটি ঘরে কর্মসূচি করবো।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে সংঘর্ষ হয়, যাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। প্রশাসনের তদন্ত এখনো চলমান। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি।

প্রশ্ন থেকে যায়— রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি আর কতদিন চলবে? শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তা কি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়? আপনিও ভাবুন—গণতন্ত্রের নামে সংঘর্ষ না কি সংঘর্ষের নামে গণতন্ত্র?

Next News Previous News