ছাত্রদলের আক্ষেপ: “আন্দোলনের দাবিদাররাই ভুলে গেছে শহীদদের”
নিউজ ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি বলেছেন, "এই এক বছর হতে না হতেই আন্দোলনের দাবিদার অনেক ছাত্র সংগঠন দাবিদারকে ভুলতে বসেছে।" শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুরে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি এ কথা বলেন। শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের স্মরণে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক, এবং উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রদল সভাপতি আরও জানান, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের সকল ইউনিট ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আবু সাঈদের কবরের পাশে কোনো ছাত্রসংগঠন না গেলেও একমাত্র ছাত্রদল তাঁকে ভুলেনি। তাই ছাত্রদল ১৬ জুলাই পীরগঞ্জে তাঁর কবর জিয়ারত করেছে।”
সভায় আরও আলোচনায় উঠে আসে সাম্প্রতিক গোপালগঞ্জের ঘটনায় সহিংসতা নিয়ে বক্তব্য। তাঁর ভাষায়, “গোপালগঞ্জে এনসিপির উপর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও খুনি হাসিনার দলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। ৭১ এর পরাজিত শক্তির উপর ভর করে তারা ভুল পথে হাঁটছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার ছড়িয়ে একটি গোপন রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। এদের সামনে রাজনীতি করার সাহস নেই। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিচ্ছে। সেদিন তারেক রহমান বাঁধা না দিলে তাদের একটি ইটও অরক্ষিত থাকত না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ছাত্রদল মনে করে কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে ছাত্রদল তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। অতীতে অনেক ছাত্রসংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাঁত করলেও ছাত্রদল কখনও তা করেনি।”
আলোচনার শেষাংশে তিনি বলেন, “আপনারা ৭১ এর পরাজিত শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন দল করেছেন। আমি আপনাদের ভুল পথ পরিহার করে সঠিক গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতির আহ্বান জানাই।”
সাম্প্রতিক আপডেট: গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। (সূত্র: স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম)
জুলাই শহীদ দিবসে এক পক্ষের উপস্থিতি আরেক পক্ষের অনুপস্থিতি—এই বিভাজন কি রাজনীতিতে মূল্যবোধের সংকটের ইঙ্গিত? পাঠক, আপনাদের মতামত কী?
