“নাটকীয় ও অসার”— ট্রাম্পের ৫০ দিনের আলটিমেটামকে পাত্তা দিচ্ছে না রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তির দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল রাশিয়া। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এই দাবিকে "নাটকীয় আলটিমেটাম" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর ভাষায়, “রাশিয়া এতে মোটেও পাত্তা দেয় না।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প একটি নতুন অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দেন ইউক্রেনের জন্য। সেখানেই তিনি বলেন, আগামী ৫০ দিনের মধ্যে যদি শান্তিচুক্তি না হয়, তাহলে রাশিয়ার ওপর ‘১০০ শতাংশ সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা সেকেন্ডারি ট্যারিফ দিতে যাচ্ছি। যদি ৫০ দিনের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে এটা খুব সহজ—রাশিয়ার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।” সেই সঙ্গে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আচরণে ‘হতাশ’ বলেও মন্তব্য করেন।

এই ঘোষণাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেন আরও বৃহৎ পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম পাবে।”

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মন্তব্য করেছেন—“ট্রাম্পের বক্তব্য গম্ভীর এবং তা সতর্ক বিশ্লেষণের দাবি রাখে।”

তবে রাশিয়ার ঘরোয়া প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন সুর। দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের সময়সীমা নির্ধারণকে “নাটকীয় ও অসার” আখ্যা দিয়ে সরাসরি অবজ্ঞা করেছেন।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক চাপে যেমনই উত্তেজনা বাড়ছে, রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর অবস্থান যেন আরও জটিল ও মুখোমুখি হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এ ধরনের ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা একপাক্ষিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

প্রশ্ন থেকে যায়: রাশিয়া যদি সত্যিই এই আলটিমেটামকে একেবারে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধ কি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠবে? আন্তর্জাতিক কূটনীতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Next News Previous News