৪৩ হাজার পৃষ্ঠা জমা দিয়েও নিবন্ধন পেল না এনসিপ
রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বিশাল কাগজপত্র জমা দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু তাতেও মিলল না সাফল্য।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি দলটি। প্রায় ৪৩ হাজার ৩১৬ পৃষ্ঠার দলিলপত্র ট্রাকে করে ইসি ভবনে জমা দেওয়া হয়েছিল, তবুও প্রাথমিকভাবে বাদ পড়েছে এনসিপি।
ইসির অতিরিক্ত সচিব এক বিবৃতিতে জানান, প্রথম দফায় ৬২টি দলকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য চিঠি দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দলকেও চিঠি পাঠানো হবে। সংশোধনের জন্য থাকবে ১৫ দিনের সময়সীমা।
নিবন্ধন না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে এনসিপিও রয়েছে, যারা প্রচলিত শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আমরা জমা দিয়েছি। ট্রাকে করে নিয়ে এসেছি। প্রতিনিধি দল ভেতরে গিয়ে মূল আবেদন জমা দিয়েছে।”
নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়:
- সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে।
- কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি থাকতে হবে।
- ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানার কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ দিতে হবে।
- দলের গঠনতন্ত্র, ইশতেহার (যদি থাকে), লোগো, পতাকার ছবি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তালিকা, ব্যাংক হিসাবসহ বিস্তারিত জমা দিতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবার নতুন নিবন্ধন চাওয়া ১৪৪টি দলের মধ্যেও অনেকেই প্রাথমিক বাছাইয়ে ‘ফেল’ করেছে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১টি। ইসির যাচাই-বাছাই শেষে যারা শর্ত পূরণে সক্ষম হবে, তাদের দলীয় প্রতীকসহ নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন রয়ে গেল—শুধু কাগজপত্রের পরিমাণই কি যোগ্যতার প্রমাণ? নাকি রাজনৈতিক দল হিসেবে দায়িত্বশীল সংগঠন গড়াই বড় চ্যালেঞ্জ?
