নেতানিয়াহুর সরকারে বড় ধাক্কা: শাহস পার্টির পদত্যাগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত! দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পড়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে। কারণ, সরকারের অন্যতম শক্তিশালী শরিক অতি-গোঁড়া শাহস পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইহুদি শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর বিরোধিতার জেরে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের ভাষায়, ‘এই আইনের মাধ্যমে আমাদের ধর্মীয় শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের শুরুতেই আরেকটি কট্টরপন্থি দল সরকার থেকে সরে দাঁড়ায়।

ফলে নেসেট বা ইসরায়েলি সংসদে এখন আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারছেন না যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তবে শাহস পার্টি আশ্বস্ত করেছে, সরকার পতনের দিকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ তারা নেবে না, বরং কিছু নির্দিষ্ট আইন পাসের ক্ষেত্রে তারা সমর্থন দেবে।

এই রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ইসরায়েলি সংসদ চলতি মাসের শেষদিকে তিন মাসের দীর্ঘ অবকাশে যাচ্ছে। এই সময়ে নেতানিয়াহুর সরকার আপাতত পতনের আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকলেও, রাজনৈতিকভাবে তার অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে বিরোধী দলীয় নেতা একটি ভিডিও বার্তায় তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “নেতানিয়াহু এখন একটি ‘অবৈধ সংখ্যলঘু সরকার’ পরিচালনা করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই সরকার এখন কিছুই করতে পারবে না। না গাজার যুদ্ধ নিয়ে সিদ্ধান্ত, না সৌদি ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।’” তিনি আরও বলেন, এই সরকার সব ধরনের বৈধতা হারিয়েছে

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সামরিক আইন ও যুদ্ধনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের সক্ষমতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

এ ধরনের রাজনৈতিক টালমাটালে ভবিষ্যতে গাজা বা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের শান্তি আলোচনার ওপর কী প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন আপনি?

Next News Previous News