ইরান-ইউরোপ সম্পর্ক উত্তপ্ত: ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে তেহরানের হুঁশিয়ারি

কূটনৈতিক সংকটের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল ইরান ও ইউরোপের সম্পর্ক। যদি পুরনো নিষেধাজ্ঞা ‘স্ন্যাপব্যাক’ নামে পুনর্বহাল করা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হবে এক নতুন বাস্তবতা—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তাদের স্পষ্ট বার্তা, যুক্তির নামে প্রতারণা চলবে না, এবার শুরু হবে কূটনৈতিক প্রতিরোধের যুগ।

সম্প্রতি তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “তাঁর ভাষায়, ‘স্ন্যাপব্যাক নামক প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনা হলে ইরান আর বসে থাকবে না।’” তিনি আরও যোগ করেন, “তাঁর ভাষায়, ‘তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, এখন আবার সেই চুক্তিকে হাতিয়ার বানাতে চাইছে। কিন্তু এবার ইরানের জবাব হবে—কঠোর, সমুচিত এবং সময় উপযোগী।’”

মূলত ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত 'জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন' (জেসিপিওএ) চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলার শর্তে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলো সেই চুক্তির গোপন ধারাগুলোর একটি, অর্থাৎ ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা ফের চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফরাসি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, চুক্তি ব্যর্থ হলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে তারা।

তেহরান এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। বাঘাই বলেন, “তাঁর ভাষায়, ‘ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ, এবং নিজেদের অধিকার থেকে তারা পিছিয়ে আসবে না।’”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকেই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মাসে ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর প্রেক্ষিতে ইরান এখন আরও বেশি সংবেদনশীল ও রক্ষণাত্মক মনোভাব নিচ্ছে। যদিও পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রেক্ষিতে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে—আলোচনা হবে তাদের শর্তে, কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই।

এক প্রশ্নের উত্তরে বাঘাই জানান, স্টে উইটক ও আব্বাস আরাকচির মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। কারণ, তাঁর ভাষায়, ‘স্ন্যাপব্যাকের হুমকি দিয়ে সংলাপ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

ইরানের অবস্থান এখন স্পষ্ট: সম্মানবোধহীন সংলাপ নয়, সম্মান থাকলেই আলোচনা। অন্যথায়—কূটনীতি নয়, প্রতিরোধই হবে নতুন রাজনীতি।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থেকেই যায়—চুক্তি ভাঙার পথে এগোলে আসলে কার লাভ? সম্পর্ক রক্ষা নাকি সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য?

Next News Previous News