লোহিত সাগরে আবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি! হুথিদের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার দাবি
লোহিত সাগরে ফের উত্তেজনা! ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা করেছে, তারা রিমোট-নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক এবং রকেট হামলার মাধ্যমে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এটি চলতি বছরে তাদের হামলায় প্রথম জাহাজডুবির ঘটনা।
হুথি পক্ষ থেকে বলা হয়, “তাঁদের ভাষায়, ‘লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ম্যাজিক সিজ-কে হামলার আগে ১৯ জন নাবিককে নামার সুযোগ দেওয়া হয়।’” হামলার পর নাবিকদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধার করে এবং তাদের জিবুতিতে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিক কোম্পানি স্টেম শিপিং।
তবে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং স্টেম শিপিং—উভয়ই এখনো জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন থেকে তুরস্কে যাওয়ার পথে জাহাজটি লোহা ও সার বহন করছিল, আর হুথিদের হামলার পর সেটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
এদিকে, ইউকেএমটিও এবং অ্যামব্রে জানিয়েছে, হোদাইদা বন্দর থেকে ৫১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে রোববার হামলাটি চালানো হয়। এই ঘটনা প্রায় ছয় মাস শান্ত থাকার পর ফের লোহিত সাগরে অস্থিরতার বার্তা দিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা ১০০টিরও বেশি সামুদ্রিক হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি বলে আসছে, তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব হামলা করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, হুথিরা একটি চুক্তির আওতায় লোহিত সাগরে হামলা থেকে বিরত থাকবে। ওমানও সে সময় এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু, সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হুথিদের হুমকি ছিল—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ভূমিকা নিলে, লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজগুলো হুমকিতে পড়বে।
রয়টার্স বলছে, এই পরিস্থিতিতে হুথিদের এই সর্বশেষ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
🔍 প্রশ্ন রইল: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতটা প্রস্তুত? আপনি কি মনে করেন, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে?
