৫০ দিনের আলটিমেটাম: ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তিচুক্তি না হলে রাশিয়ার ওপর ‘কঠোর শুল্ক’ হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—আগামী ৫০ দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো শান্তিচুক্তি না হলে, রাশিয়ার ওপর আরোপ করা হবে ‘অত্যন্ত কঠোর’ শুল্ক। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের জন্য বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির কথাও।

হোয়াইট হাউজে ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করব, এবং তা ন্যাটোর কাছে পাঠানো হবে।” তাঁর ভাষায়, “এর খরচ বহন করবে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো।” এই প্যাকেজে ইউক্রেনের বহু প্রতীক্ষিত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা মিসাইলও থাকবে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, “একটি দেশে ১৭টি প্যাট্রিয়ট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে... আমরা এমন একটি চুক্তি করব, যাতে এই ১৭টি কিংবা তার বড় একটি অংশ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো যায়।” পাশাপাশি পুতিনের প্রতি কড়া বার্তায় তিনি বলেন, “যদি ৫০ দিনের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি না হয়, তাহলে রাশিয়ার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, এমনকি অন্য দেশগুলোর ওপরও পার্শ্বশুল্ক (secondary tariffs) বসবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি—যেখানে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পদে ফিরেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মস্কো এবং কিয়েভের মাঝে কার্যকর কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি, যদিও ছয়বার পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ ও একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

মে মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইস্তাম্বুলে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অস্বীকৃতি জানান। বদলে প্রতিনিধি দল পাঠানো হলেও কেবল বন্দি বিনিময় চুক্তি পর্যন্তই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর রুশ পক্ষ থেকে শক্ত প্রতিক্রিয়া আসে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। এর কিছু তো প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সরাসরি লক্ষ্য করে বলা হয়েছে।” তাঁর ভাষায়, “ওয়াশিংটন ও অন্যান্য ন্যাটো দেশের সিদ্ধান্তগুলো ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের বার্তা হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হয়।”

এদিকে, সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ এক্স-এ লিখেছেন, “ট্রাম্পের এই নাটকীয় আলটিমেটাম রাশিয়ার গায়ে লাগবে না।” আর রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ মন্তব্য করেন, “আমরা প্রথমেই জানিয়ে দিচ্ছি— কোনো ধরণের দাবি, বিশেষ করে আলটিমেটাম, আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

অবশ্য বাজারে এসব হুমকির কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েনি। মস্কো স্টক এক্সচেঞ্জ জানায়, সোমবার রাশিয়ার বাজার ২.৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। দিন শেষে রুশ রুবল ডলারের বিপরীতে মাত্র ০.২ শতাংশ দুর্বল হয়, যদিও দিনের শুরুতে কিছুটা কমে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন এখনো তার যুদ্ধ-লক্ষ্য থেকে একচুলও পেছাননি। তাঁর কৌশল স্পষ্ট না হলেও ভূখণ্ড দখল এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকানোই মূল লক্ষ্য। রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিরন বলেন, “রাশিয়ার কৌশল যদি ব্যাখ্যা করতে হয়, তাহলে সেটা হলো— ‘শান্ত থাকো, চালিয়ে যাও’।”

ট্রাম্পের এই নতুন আলটিমেটাম শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের গতিপথে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে— কঠোর অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে কি সত্যিই শান্তি আনা যায়?

Next News Previous News