গণঅভ্যুত্থানের প্রজন্ম কাউকে ভয় পায় না”—পথসভায় ক্ষোভ উগরে দিলেন নেতার

সংবিধান নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃপ্ত বক্তব্য—সিরাজগঞ্জে এনসিপির পথসভা ও পদযাত্রায় নতুন বার্তা দিলেন নেতারা।

এনসিপির এক নেতা বলেন, মুজিববাদী ও আওয়ামী লীগের সংবিধান গত ৫০ বছরে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিভক্ত করেছে। তাঁর ভাষায়, “এই সংবিধান দেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, গুম-খুনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো নির্বাচনে যাবে না। তাঁর কথায়, “আমরা পুরনো সিস্টেমে আর ফিরতে চাই না। এমন সংস্কার করতে হবে যেন কেউ আর স্বৈরাচারী হতে না পারে।”

পথসভায় দেশের প্রভাবশালী মিডিয়া হাউজ ও কিছু শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও তীব্র অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর ভাষায়, “বসুন্ধরা গ্রুপ একটি মাফিয়া গ্রুপ। মিডিয়া ও অর্থনীতিকে জিম্মি করে জনগণের টাকা লুট করেছে। সেই বসুন্ধরা গ্রুপের বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এস আলম দুর্নীতিবাজ। লুটেরাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এখনো গণঅভ্যুত্থানের পর ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে, এটা চলতে পারে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রজন্মের শক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে প্রজন্ম পুলিশের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে, তারা কাউকে ভয় পায় না। যারা আবার ভয় দেখাতে চায়, তারা ভুল করছে।”

সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে এনসিপির পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। তাঁর ভাষায়, “প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা বাধা সৃষ্টি করছে, কোনো আঘাত বা বাধা এলে এনসিপির নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না।”

পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকরাসহ শীর্ষ নেতারা।

সম্প্রতি কী ঘটছে?

  • দেশজুড়ে গণজোয়ারের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে।
  • বিশেষ করে মিডিয়া মালিকদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
  • প্রথম আলোজাগো নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক শিল্পগোষ্ঠী বর্তমানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় টিকে আছে।

প্রশ্ন রইলো: দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার কি সত্যিই সম্ভব, নাকি এটি নতুন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক উত্তরণের ইঙ্গিত? আপনি কী ভাবছেন?

Next News Previous News