গাজায় সংকট অব্যাহত: যুক্তরাজ্যের কঠোর বার্তা ইসরায়েলের প্রতি

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে গঠিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএফএইচ) কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

তাঁর ভাষায়, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি—এই ফাউন্ডেশনকে আমরা সমর্থন করি না। এটা কার্যকরভাবে কাজ করছে না। অনেক মানুষ এখনো অনাহারে, অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে জিএফএইচ-এর সহায়তা নিতে গিয়ে বহু ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হয়েছেন। বৈঠকে এক আইনপ্রণেতার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “গাজায় এই সহ্য করা অসম্ভব পরিস্থিতি চলতে থাকলে, হ্যাঁ, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

এর আগেও যুক্তরাজ্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন, ইসরায়েলি দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা স্থগিত। গাজায় খাদ্যসংকট শুরু হলে অস্ত্র রপ্তানিও কিছুটা সীমিত করে লন্ডন।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব পদক্ষেপ এখনো প্রতীকী এবং ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে যথেষ্ট নয়।

বৈঠকে মন্ত্রী স্বীকার করেন, “পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। কিন্তু আমাদের চাপ প্রয়োগেও তেল আবিবের আচরণে এখনো পর্যাপ্ত পরিবর্তন আসেনি।”

তবুও তাঁর দাবি, “আমরা হয়তো এককভাবে পুরো অঞ্চলকে পাল্টে দিতে পারি না, কিন্তু যা করছি, তার সঙ্গে তুলনীয় কেউ নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য একটি দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে—একদিকে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অপরদিকে দেশের ভেতরে ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। সম্প্রতি ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের সংগঠনটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং বহু কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গেও যুক্তরাজ্য এখনো দ্বিধায়। মন্ত্রীর ভাষায়, “আমরা চাই এই স্বীকৃতি এমন এক সময়ে আসুক, যখন তা বাস্তব সমাধানের পথ তৈরি করতে সহায়ক হবে।”

তবে কমিটির চেয়ার বলেন, “অব্যাহত দখলদারি ও বসতি সম্প্রসারণের বাস্তবতায় যদি যুক্তরাজ্য আর অপেক্ষা করে, তাহলে ‘স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কিছু থাকবে না।’”

তাঁর মতে, “আমরা এখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে সেই রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ শুরু করতে পারি। না হলে, এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।”

প্রশ্ন রইল—বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতীকী পদক্ষেপ কি সত্যিই গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর হবে? নাকি দরকার আরও সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ উদ্যোগ?

Next News Previous News