দেশ বাঁচাতে চাইলে প্রয়োজন নির্বাচন”—বিএনপি মহাসচিবের কণ্ঠে রাজনৈতিক বার্তা
রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপি মহাসচিব। গণতন্ত্র রক্ষার ডাক দিয়ে তিনি বলেছেন, “সবাই মিলে দেশটা গড়তে হবে, এজন্য দরকার নির্বাচন।” একইসাথে দাবি তুলেছেন—গণহত্যার দায়ে শুধু একজন নয়, বিচার হওয়া উচিত পুরো দলীয় কাঠামোর।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে দলীয় নেতা আব্দুল কুদ্দুসকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তাঁর ভাষায়, “দেশে হাজার মানুষ হত্যার দায় নিয়ে ১১ মাস আগে ভারতে পালিয়ে যান জনরোষে পদচ্যুত স্বৈরশাসক। এত দীর্ঘ সময় পরও তাঁর ও তাঁর দলের বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নিপীড়ন, হত্যা, গুম ও খুনের সবচেয়ে বড় শিকার তারাই। সেইসাথে জানান, “নির্বাচন আর সংস্কার কখনো সাংঘর্ষিক নয়। দেশের জনগণ নির্বাচন চায়। যারা নির্বাচন পেছাতে চায়, তাদের আরেকবার ভাবা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে এই দলই। দেশকে সবাই মিলে বাঁচাতে হবে। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হলো দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া।”
পরে তিনি যান আরেকটি হাসপাতালে, দেখতে বরেণ্য লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভিনকে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে তিনি আর্থিক সহযোগিতাও তুলে দেন।
সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ফরিদা পারভিন এই উপমহাদেশের অন্যতম সংগীতশিল্পী। বিশেষ করে তিনি লালন সংগীতে অদ্বিতীয়। গোটা দেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসে। দীর্ঘকাল ধরে সংগীত জগতে প্রভাব রেখে চলেছেন। এখন তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁর কিডনি সমস্যা রয়েছে। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—এই গুণী শিল্পীর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হোক।”
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলো বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে করে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ছক আরও জটিল হতে পারে।
আপনার কী মনে হয়—নির্বাচনের পথেই কি রয়েছে সমাধান? মতামত জানান মন্তব্যে।
