গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ, সারাদেশে বিক্ষোভের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদন: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ তুলেছেন দলের আহ্বায়ক। খুলনায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন—“আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।”
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গোপালগঞ্জ থেকে মাদারীপুর যাওয়ার পথে এনসিপি ও গণঅভ্যুত্থনের নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। তাঁর ভাষায়, “সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকলেও হামলা রোধ করা সম্ভব হয়নি।”
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে হামলার ঘটনায় দলের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মৃত্যুর খবর রয়েছে বলেও জানান তিনি, তবে সেই বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজকের ঘটনায় আওয়ামী লীগের আসল রূপ দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তারা এখন আর রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি জঙ্গি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।” তাঁর ভাষায়, গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে—এই এলাকায় সরকারবিরোধী কোনো আয়োজন অসম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, “৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে উঠেছে ফেরারি আসামিদের আশ্রয়কেন্দ্র। নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের নেতারা সেখানে অবস্থান করে আজকের হামলা পরিচালনা করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে সমাবেশ হবে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপি নেতার ভাষ্য, “গণতান্ত্রিক দেশে সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার রয়েছে। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের বাইরে নয়, সেখানে কর্মসূচি করাও সাংবিধানিক অধিকার।” তিনি অভিযোগ করেন, “প্রশাসন আগেভাগে পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।”
সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক তথ্য: গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন গোপালগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করেছে।
প্রশ্ন রইল: রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কি প্রশাসন ও সরকার যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে? আপনার মতামত কী?
