খুব সহজেই যেভাবে মুক্তি পাবেন স্ক্যাবিস রোগ থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক | নতুন বাংলা |
১৩ মে ২০২৫
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্ক্যাবিস রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি ভয়াবহ হলেও চিকিৎসা পদ্ধতি খুবই সহজ এবং প্রতিরোধ সম্ভব একমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই।
স্ক্যাবিস রোগ হয় Sarcoptes scabiei নামক এক ধরনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাইটের কারণে, যা ত্বকের নিচে গর্ত করে বাসা বাঁধে। এতে আক্রান্ত হলে তীব্র চুলকানি, লাল ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আঙুলের ফাঁকে, তলপেটে, উরুর ভাঁজে, অণ্ডকোষ বা স্তনের আশপাশে।
স্ক্যাবিসের লক্ষণসমূহ:
- তীব্র চুলকানি (বিশেষ করে রাতে)
- লাল ফুসকুড়ি বা ছোট ছোট ফোসকা
- আঙুলের ফাঁকে, কব্জি, নাভি ও যৌনাঙ্গের আশেপাশে ঘন ঘন চুলকানি
চিকিৎসা যেভাবে করবেন:
১. পারমেথ্রিন ক্রিম (৫%) ব্যবহার করুন:
- গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি অংশে রাতে ঘুমানোর আগে ভালোভাবে লাগাতে হবে
- অন্তত ৮–১০ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে হবে (এই সময়ের মধ্যে পানি বা হাত ধোয়া যাবে না)
- সকালে গোসল করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করতে হবে
- ব্যবহৃত বিছানা, বালিশের কাভার, চাদর ইত্যাদি গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে
- এক সপ্তাহ পর প্রয়োজনে পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে
২. চুলকানি ও সংক্রমণের জন্য সাপোর্টিভ ওষুধ:
- অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় বড়ি (যেমন: সিট্রিজিন, লোরাটাডিন)
- সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
৩. ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস হলে:
- ৭ দিন একটানা পারমেথ্রিন ব্যবহার
- নির্ধারিত দিনে আইভারমেকটিন ট্যাবলেট সেবন করতে হয় (চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন)
প্রতিরোধের উপায়:
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
- পরিবারের সব সদস্যকে একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া
- প্রতিদিন পোশাক পরিবর্তন ও পরিষ্কার রাখা
- ব্যবহৃত চাদর, তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো
- পুষ্টিকর খাবার খান, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
চিকিৎসকের পরামর্শ:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাত জামান বলেন,
“স্ক্যাবিস দ্রুত ছড়ালেও নির্দিষ্ট নিয়মে চিকিৎসা নিলে তা সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়। সমস্যা হয় তখনই, যখন কেউ চিকিৎসা শুরু করে কিন্তু মাঝপথে বন্ধ করে দেয় বা পরিবারের অন্য সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয় না।”
উপসংহার:
স্ক্যাবিস রোগে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নির্দিষ্ট নিয়মে চিকিৎসা ও কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। দেশজুড়ে স্ক্যাবিস সচেতনতায় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং পরিবার পর্যায়েও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
