বিনিয়োগ নিয়ে দেশে সার্কাস চলছে’: চট্টগ্রামে সেমিনারে আমীর খসরু

নিউজ প্রতিবেদন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে 'সার্কাস' আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও একটি নির্বাচিত সরকারের অভাবই বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, প্রকৃত বিনিয়োগ আকর্ষণে রাজনৈতিক আস্থাই মূল চাবিকাঠি।

বিএনপির শীর্ষ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউড়ি এলাকার একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘কর্মসংস্থান ও বহুমাত্রিক শিল্পায়ন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন।

“দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিনিয়োগ নিয়ে দেশে অনেক সার্কাস হচ্ছে। কথাগুলো বলা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তবুও বলছি—যারা বিনিয়োগ বোঝে, তারা জানে এই সার্কাসের মাধ্যমে বিনিয়োগ হবে না।”

খসরু আরো বলেন,

“বাংলাদেশে বিনিয়োগ হতে হলে একটি নির্বাচিত, দায়বদ্ধ ও স্থিতিশীল সরকার থাকতে হবে। বিনিয়োগকারীরা সরকারের মানসিকতা, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান বাস্তবতায় এসব অনুপস্থিত।”

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী তরুণ উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের প্রসঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা ও ভাবনা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাহেদুল ইসলাম বলেন,

“বিদ্যমান রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী অনিশ্চয়তা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, রাজনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশে প্রত্যাশিত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই দেশে একটি ‘গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে, যা তারা মনে করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে অপরিহার্য।

সেমিনারে আমীর খসরুর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিনিয়োগ নিয়ে তাঁর ‘সার্কাস’ মন্তব্য শুধু বিরোধী রাজনীতিকদের নয়, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রশ্নের উদ্রেক করেছে—দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কতটা প্রস্তুত? রাজনৈতিক ঐক্যমত্য ও কার্যকর নীতিমালার অভাবে বাংলাদেশ যদি বিনিয়োগ হারায়, তাহলে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও সংশয় থেকেই যাবে।

Next News Previous News