আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, চার ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ

সংবাদ প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগকে ‘জুলাইয়ের গণহত্যার’ জন্য দায়ী করে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে শুক্রবার বিকেল থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় দখলে নিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। আন্দোলনকারীরা দলটি নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর যমুনা বাসভবনের সামনে এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,

“জুলাই মাসে যে গণহত্যা হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না। আমরা আজ স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের দলটিকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছাড়ব না।”

সমাবেশ শেষে তিনি ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন, এবং তাৎক্ষণিকভাবে শত শত বিক্ষোভকারী শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করো’, ‘জবাব চাই জুলাইয়ের হত্যার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এসময় তারা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে দাবির প্রচার চালান।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,

“বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ করেই রাস্তায় বসে পড়ে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত সহিংসতা হয়নি, তবে যান চলাচলে ভীষণ বিঘ্ন ঘটেছে।”

গত জুলাই মাসে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়ার খবর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধীদল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন অভিযোগ করে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। যদিও সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তা ছিল ‘জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান’।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং গণহত্যা-সদৃশ ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় মদদে সংঘটিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের একটি অংশ ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছে।

শাহবাগে চলমান অবরোধ রাজধানীর অন্যতম প্রধান সড়ক যোগাযোগকে স্থবির করে ফেলেছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দলটির নিষেধাজ্ঞার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পিছু হটবেন না। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি রাজনৈতিক উত্তাপও নতুন করে তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—সরকার ও প্রশাসন কীভাবে এই দাবির মোকাবিলা করে এবং আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়।

Next News Previous News