অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে সংশয়: তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না—এ নিয়ে জনগণের মধ্যে বিস্তর সংশয় তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ফার্মগেটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ খ্রিষ্টান ফোরাম আয়োজিত ইস্টার পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,
“বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্রমেই গভীর উদ্বেগ এবং সন্দেহ দেখা দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন করা। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন নিয়োগ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সেসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে মত বিনিময় করেন।
বাংলাদেশ খ্রিষ্টান ফোরামের সভাপতি পিটার গোমেজ বলেন, “দেশে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা খুবই জরুরি। সব রাজনৈতিক শক্তিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে হবে।”
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও সরকার দাবি করছে এটি একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা, তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই সরকার নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে, যা বর্তমানে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, “তারেক রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। তবে এটি জনগণের একটি বাস্তব উদ্বেগকেও প্রতিফলিত করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থার সংকট নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।”
তারেক রহমানের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য, কৌশল ও অবস্থানের প্রতি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
