ইসরাইলি বাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা ৮৫৩: গাজায় হামাসের গেরিলা কৌশলের মুখে বিপর্যস্ত অভিযান

News Article

গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ৮৫৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে ইসরাইল। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তিতে সজ্জিত হয়েও ইসরাইলি সেনারা হামাসের গেরিলা কৌশলের মুখে চরম প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদের সামরিক অভিযানের অগ্রযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার সেনা আহত বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। গাজায় প্রতিদিনের অভিযান, সুড়ঙ্গঘেরা এলাকাগুলোতে গেরিলা আক্রমণ, বিস্ফোরক ফাঁদ ও চোরাগোপ্তা হামলার কারণে এই প্রাণহানির হার বাড়ছে।

হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা “প্রতিরোধ যুদ্ধের একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে” এবং গাজা উপত্যকাকে “অজেয় দুর্গে” পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।

ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমোস হারেল বলেন,

“এটি শুধু একটি যুদ্ধ নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধেরও পরীক্ষা। হামাস কৌশলগতভাবে যেভাবে সুড়ঙ্গ, বিস্ফোরক ও আশ্চর্যজনক আক্রমণ ব্যবহার করছে, তা IDF-এর জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।”

হামাসের রাজনৈতিক শাখার মুখপাত্র হাসান ইউসুফ আল জাজিরাকে বলেন,

“আমাদের যোদ্ধারা গাজার প্রতিটি ইঞ্চিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইসরাইলি সেনারা এখানে একপাও আগাতে পারছে না নির্ভয়ে।”

গত বছরের শেষ দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। মূল লক্ষ্য ছিল হামাসকে দুর্বল করে গাজায় ইসরাইলি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। তবে শুরু থেকেই হামাসের প্রতিরোধ কৌশল, ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক এবং অপ্রত্যাশিত আক্রমণ ইসরাইলি বাহিনীকে কৌশল পরিবর্তনে বাধ্য করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী স্থল অভিযান ইসরাইলের জন্য উচ্চমূল্যের সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে বেড়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বেসামরিক প্রাণহানির উদ্বেগ।

গাজায় যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা ইসরাইলি সামরিক কৌশল এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রশ্ন তোলে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অন্যদিকে, হামাসের প্রতিরোধ কৌশল ও স্থানীয় সমর্থন এ সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেরা এখন দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে একটি টেকসই সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, যদিও মাঠে তার প্রতিফলন এখনও অনিশ্চিত।

Next News Previous News