হেফাজতের বক্তব্যের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নারী নেত্রীদের

News Report

জনপরিসরে নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ছয়জন নারী, যাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী নারী সংগঠন এনসিপির তিন নেত্রী। মাইক ব্যবহার করে একজন নারীকে “বেশ্যা” বলে আখ্যায়িত করায় তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, হেফাজতের এক শীর্ষ নেতা সম্প্রতি একটি জনসমাবেশে মাইক ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে “অশালীন ও অবমাননাকর” মন্তব্য করেন, যা সংবিধানবিরোধী এবং নারীর মর্যাদাকে হেয় করে। এতে বলা হয়, সংগঠনটি এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশদাতারা হলেন:

  • সৈয়দা নীলিমা দোলা
  • দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী
  • নীলা আফরোজ
  • উম্মে রায়হানা
  • উম্মে ফারহানা
  • ক্যামেলিয়া শারমিন চূড়া
তাঁরা যৌথভাবে আইনজীবীর মাধ্যমে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে এ নোটিশ পাঠান।

সৈয়দা নীলিমা দোলা এক বিবৃতিতে বলেন,

“নারীদের সম্মানহানি করে কেউ যদি ধর্মের নামে অপপ্রচার চালায়, আমরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। এটি কেবল একটি লিগ্যাল নোটিশ নয়, এটি নারীর মর্যাদার পক্ষে একটি অবস্থান।”

আইনজীবী ব্যারিস্টার কামরুল আহসান, যিনি নোটিশটি প্রস্তুত করেছেন, বলেন,

“এই ধরনের বক্তব্য শুধু সামাজিকভাবে নয়, আইনগতভাবেও দণ্ডনীয়। আমরা হেফাজতের কাছে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা দাবি করেছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাড়া না পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন, যা অতীতে নারীর পোশাক, চলাফেরা এবং শিক্ষা সংক্রান্ত নানা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছে। এ সংগঠন প্রায়শই জনসমাবেশে ‘ইসলামবিরোধী কার্যক্রম’ বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকার ও সমাজের বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষা ব্যবহার করে থাকে।

এবারের ঘটনায় জনপরিসরে এমন ভাষা ব্যবহার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ধরনের বক্তব্য শুধু নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এটি সমাজে সহিংসতা ও বৈষম্য উসকে দেয়।

এই লিগ্যাল নোটিশকে ঘিরে দেশে ধর্মীয় বক্তব্য ও নারী অধিকারের দ্বন্দ্ব আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে নারী অধিকারকর্মীরা বলেছেন, আইন ও সংবিধানের আওতায় থেকে তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। বিষয়টি যদি আদালতে গড়ায়, তবে এটি নারী সম্মান রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

Next News Previous News