কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাশিয়ার

News Report

কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা ঘিরে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এই প্রস্তাব দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তানি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (৫ মে) জিও নিউজ এ তথ্য জানায়।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, এবং রাশিয়া আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। আলোচনায় ল্যাভরভ কাশ্মীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান।

পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আলোচনায় রাশিয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং বলেন, “আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দেয়।”

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন,

“কাশ্মীর একটি সংবেদনশীল ও জটিল ইস্যু। আমাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমেই এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। রাশিয়া আন্তরিকভাবে চায়, ভারত ও পাকিস্তান দু’পক্ষই শান্তিপূর্ণ উপায়ে উত্তেজনা নিরসনে সম্মত হবে।”

পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান,

“রাশিয়ার প্রস্তাব কেবল একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকাও তুলে ধরে। আমরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।”

কাশ্মীর ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও সংবেদনশীল দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজন ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। ভারত দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত। অন্যদিকে, পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ব্যর্থতা।

রাশিয়া অতীতেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষত, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় রাশিয়া দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও ভারত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে কাশ্মীর ইস্যুতে বাইরের মধ্যস্থতা নিয়ে দিল্লির সাধারণত সংবেদনশীল মনোভাব রয়েছে। তবুও দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।

Next News Previous News