ভারতে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ শতাধিক শিশু, খাবারে ছিল মৃত সাপ; এনএইচআরসির তদন্ত শুরু

খবর প্রতিবেদন

ভারতের বিহার রাজ্যের মোকামা শহরের একটি সরকারি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে শতাধিক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশিত খাবারের মধ্যে একটি মৃত সাপ পাওয়া গেলেও তা সরিয়ে না রেখেই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। ঘটনার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) বিষয়টি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়।

এনএইচআরসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিহারের পাটনা জেলার মোকামা শহরের একটি সরকারি বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকে ওই দিন মিড-ডে মিল দেওয়া হয়। কিন্তু খাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই শতাধিক শিশু বমি, পেটব্যথা ও বমি বমি ভাবসহ নানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়।

“আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে যে, পরিবেশিত খাবারের মধ্যে একটি মৃত সাপ পাওয়া গেছে, যা সরানো হয়নি। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি কর্মসূচিতে এ ধরনের গাফিলতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন,” বিবৃতিতে জানায় এনএইচআরসি।

মোকামা সিভিল হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. এন.কে. প্রসাদ বলেন, “আমরা শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছি। বেশিরভাগের অবস্থাই এখন স্থিতিশীল। সৌভাগ্যবশত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহে তদারকির ঘাটতির কথা স্বীকার করে। একটি সূত্র জানায়, ওই দিন সরবরাহ করা খাবারটি বিদ্যালয়ের বাইরে একটি বেসরকারি ক্যাটারিং সংস্থা প্রস্তুত করেছিল।

এনএইচআরসি বিহার রাজ্য সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলেছে। একইসঙ্গে মিড-ডে মিল কর্মসূচির নিরাপত্তা ও গুণগত মান তদারকির ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে অভিভাবক ও সমাজকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন অভিভাবক রেণু দেবী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি স্কুলে আমাদের সন্তান নিরাপদ থাকবে। কিন্তু এই ঘটনা সেই বিশ্বাসে আঘাত করেছে। এটা কেবল গাফিলতি নয়, এটি বিশ্বাসঘাতকতা।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া মিড-ডে মিল কর্মসূচিটি স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি বাড়ানো ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়। তবে বছরের পর বছর এটি নিরাপত্তা ও খাবারের মান নিয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে।

ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মসূচিতে বারবার এমন ঘটনা কেন ঘটছে। শিশুদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় শুধু তদন্ত নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও জবাবদিহি—তা না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Next News Previous News