সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, আটজনকে বেঁধে নির্যাতন

News Article

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে একদল সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পরিবারের আটজন সদস্যকে বেঁধে রেখে মারধর করে, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট চালায়। ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রায় ১৫-২০ জনের একটি দল পুলিশের পোশাক ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে বাড়ির মূল ফটকে এসে উপস্থিত হয়। তারা ‘অভিযান চলছে’ বলে জানিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে বসতঘর ও সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং মূল্যবান দলিলপত্র লুট করে নেয়।

হামলার সময় হামলাকারীরা ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ ভেঙে দেয় বলে জানান স্থানীয়রা। দোকানগুলোতে কাঁচামাল, মোবাইল, কাপড় ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের দাবি, তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে।

“তারা পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢোকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের বেঁধে ফেলে। আমার স্ত্রী ও বোনদেরও মারধর করে। তারপর সব কিছু লুটে নিয়ে চলে যায়। এমনকি ঘরের দলিলপত্রও নিয়ে গেছে।” — মো. হানিফ হোসেন, ভুক্তভোগী
“এটা কোনো পুলিশের অভিযান হতে পারে না। এটা পরিকল্পিত ডাকাতি ও হামলা। যারা এ কাজ করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।” — হাফিজুর রহমান, স্থানীয় ইউপি সদস্য
“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কাজ যারা পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপরাধ করছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — জিয়াউল আহসান, ওসি, ঝালকাঠি সদর থানা

পুলিশ পরিচয়ে অপরাধ করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু অভিযানে দেখা গেছে, অপরাধীরা পুলিশ বা র‍্যাব সেজে সাধারণ মানুষের বাসায় ঢুকে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অপরাধে জড়িত চক্রগুলোর সাথে স্থানীয় সহযোগী থাকায় তারা এমন ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে পারে।

বটতলা বাজারের এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

Next News Previous News