সবজির দাম বাড়ছে প্রতি সপ্তাহেই, মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি: ভোক্তারা বিপাকে
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ও খিলক্ষেত কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বিভিন্ন সবজির দাম বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মুরগির দামও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। ফলে মধ্যবিত্তসহ সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন চরম অস্বস্তিতে।
শুক্রবার (২ মে) সরেজমিনে রাজধানীর এই দুটি প্রধান কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, লাউ, শসা, করলা, পটল, বরবটি, কাঁকরোল, ঢেঁড়সসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এছাড়া, ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রতি দাম ২০-২৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২৩০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দামও প্রতি ডজন ৫-৭ টাকা বেড়েছে।
আজমপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, “এ বছর আবহাওয়ার কারণে শুরুর দিকে চাষাবাদে সমস্যা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, তাই দামও বাড়ছে।”
একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ শবনম আক্তার বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। একসঙ্গে সবজি, মাছ-মুরগি কেনা এখন বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
খিলক্ষেত বাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, “ফিড, পরিবহন, এবং খামারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।”
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে সাধারণত দেশীয় সবজির উৎপাদন বাড়ে। তবে চলতি মৌসুমে খরার প্রভাব এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে অনেক এলাকায় ফলন ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের খামারগুলোতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুরগি ও ডিমের বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।
ভোক্তারা যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার কার্যকরী তদারকি এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিকট ভবিষ্যতে এই অস্থিরতা কাটানোর আশা দেখছেন না বাজারসংশ্লিষ্টরা।
