ইসরায়েলের পাল্টা হামলা: গাজা অভিযানের মাঝে ইয়েমেনসহ তিন দেশে হামলা
গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংস অভিযানের মধ্যেই একদিনে ইয়েমেনসহ আরও তিনটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার পর পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে সিরিয়া ও দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি অভিযান চলছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, যেখানে বহু বেসামরিক হতাহতের খবর মিলেছে।
ইয়েমেনের সানা ও হুদাইদাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
হুতি আন্দোলনের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, "ইসরায়েলের নৃশংসতার জবাবে আমাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। তেল আবিব বিমানবন্দরে হামলা ছিল আমাদের সতর্কবার্তা।"
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা নেব। হুতিদের আক্রমণ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল।”
সিরিয়ার দামেস্কের উপকণ্ঠে একাধিক সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ান পর্যবেক্ষক সংস্থা।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও সীমান্ত বরাবর গোলাবর্ষণের খবর মিলেছে, যদিও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন নয়। তবে অক্টোবরের শেষদিক থেকে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান ব্যাপক আকার ধারণ করে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মহল বারবার মানবিক বিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েল তা উপেক্ষা করে আসছে। এ প্রেক্ষিতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের কেন্দ্র ইয়েমেন, তারা ইসরায়েলবিরোধী আঞ্চলিক জোটের অংশ হিসেবে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ড. রাশিদ আল-খাতিব বলেন, “এই হামলাগুলি কেবল যুদ্ধক্ষেত্র বিস্তৃত করছে না, বরং আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। হুতিদের মাধ্যমে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা এই বার্তা দিচ্ছে যে, যুদ্ধ এখন আর সীমিত অঞ্চলে আবদ্ধ নেই।”
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের আবহ বিরাজ করছে। হুতিসহ আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি এখন এই অঞ্চলের দিকে, যেখানে প্রতিটি নতুন হামলা একটি বৃহৎ সংঘাতের ঝুঁকি বহন করছে।
