সাবেক কৃষিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন খান গ্রেপ্তার: বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাধা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আল আমিন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মধুপুর পৌরসভার বোয়ালী গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাধা দেওয়া এবং সহিংস হামলার পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না।”

আটক আল আমিন খান টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামের মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত আয়াত আলী খানের পুত্র। তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিবেশী ছিলেন এবং ড. রাজ্জাক মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ড. রাজ্জাক মন্ত্রিত্ব না পেলেও, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও আল আমিন এপিএস পদে বহাল ছিলেন।

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি মধুপুরে বেশ কিছু উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা স্থানীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করলে, তা বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বাধা এবং সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী রাশেদা সুলতানা বলেন, “এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে প্রশাসন অবশেষে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যারা আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হওয়া জরুরি।”

অন্যদিকে, ড. রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ড. রাজ্জাকের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আল আমিন খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথার্থতা এবং তার রাজনৈতিক সংযোগের বিষয়টি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে তাকে আদালতে তোলা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে বিভিন্ন মহলের অবস্থান ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে। ঘটনাটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Next News Previous News