টানা আট রাত ধরে সংঘর্ষ: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের গোলাগুলি, হতাহতের খবর নেই
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর বৃহস্পতিবার (১ মে) রাতেও দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সীমান্ত এলাকায় টানা আট রাত ধরে চলমান এই সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার অন্তর্গত এলওসির কাছে গোলাগুলি শুরু হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, পাকিস্তান সেনা “বিনা প্ররোচনায়” গুলি ছোঁড়ে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনীও। রাত দেড়টা নাগাদ গোলাগুলি বন্ধ হয় বলে সেনা সূত্রে জানা গেছে। এলাকায় তীব্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে।
“এটি সম্পূর্ণরূপে একটি উসকানিমূলক হামলা। আমাদের বাহিনী সংযম দেখালেও প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার।”
— ভারতীয় সেনার মুখপাত্র
“ভারতীয় সেনার প্রথম গুলিবর্ষণের জবাবেই আমাদের বাহিনী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে আমরাও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত।”
— পাকিস্তানের আইএসপিআর
গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসবাদী হামলায় তিন ভারতীয় সেনা নিহত হন। তার পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এই টানা সংঘর্ষ শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নয়, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
“প্রতিদিন রাতে গুলির শব্দে ছোট ছোট বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে যায়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকার যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারে, তাহলে অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করুক।”
— আব্দুল করিম, স্থানীয় বাসিন্দা
এই ঘটনার পর দুই দেশই সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। আন্তর্জাতিক মহলও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পথেই সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
