পেহেলগাম হামলার ঘটনায় ভারতের প্রতি সহমর্মতা জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সংবাদ প্রতিবেদন

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আলোচনায় হেগসেথ ভারতের প্রতি গভীর সহমর্মতা প্রকাশ করেন এবং আত্মরক্ষার অধিকারে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই টেলিফোন সংলাপ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।

“পেহেলগাম হামলায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে আমরা সমর্থন করি এবং আত্মরক্ষার অধিকারকে সম্মান জানাই। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ভারতের পাশে থাকবে।” — পিট হেগসেথ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

উল্লেখ্য, পেহেলগামে সম্প্রতি একটি পর্যটক বহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়। যদিও এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবুও ভারত সরকার এটি ‘উগ্রপন্থী তৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

পটভূমি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিগত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। সামরিক মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময়, এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। উভয় দেশই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করে চলেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে রাজনাথ সিং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অঙ্গীকার সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি হামলার ঘটনায় সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য হেগসেথকে ধন্যবাদও জানান।

উপসংহার

পেহেলগাম হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়া কেবল কূটনৈতিক সমর্থন নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পারস্পরিক সহানুভূতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

Next News Previous News