গাজার শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকে রূপান্তরিত হচ্ছে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের ব্যবহৃত গাড়ি
প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত একটি গাড়িকে গাজা উপত্যকার যুদ্ধাহত ও অসুস্থ শিশুদের জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্লিনিকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এটি ছিল পোপ ফ্রান্সিসের শেষ ইচ্ছাগুলোর একটি, যা তার মৃত্যুর পর বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস তার জীবদ্দশায় দারিদ্র্যপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের শিশুদের সহায়তায় বারবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ব্যবহৃত গাড়িটি ছিল একটি ছোট আকারের হাইব্রিড ভেহিকল, যা তিনি প্রায় এক দশক ব্যবহার করেন ভ্যাটিকান সিটিতে।
গাড়িটি ইতোমধ্যে ভ্যাটিকান থেকে ইতালির এক মানবিক সহায়তা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাদের সহযোগিতায় এটিকে একটি মোবাইল ক্লিনিকে রূপান্তরের কাজ চলছে।
ক্লিনিকটি গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে শিশুদের চিকিৎসা ও মানসিক পুনর্বাসনে নিয়োজিত থাকবে বলে জানা গেছে।
ভ্যাটিকান হিউম্যানিটারিয়ান সেক্রেটারিয়েটের মুখপাত্র কার্ডিনাল আন্দ্রেয়া মারতেল্লো বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস সবসময় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন। তিনি নিজেই বলেছিলেন, 'যেখানে যুদ্ধ ধ্বংস আনে, সেখানে আমাদের ভালোবাসা নিয়ে পৌঁছাতে হবে।' এই উদ্যোগ সেই চেতনারই বাস্তব রূপ।”
গাজার শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ড. লায়লা হাবিব বলেন, “আমরা চিরকৃতজ্ঞ। এই ক্লিনিকটি কেবল চিকিৎসা নয়, শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ও সহানুভূতির এক নতুন আশ্রয় হবে।”
পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন ক্যাথলিক চার্চের ২৬৬তম পোপ এবং ২০১৩ থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মানবতা, শান্তি ও পরিবেশ নিয়ে তিনি বারবার বিশ্বকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতে তিনি উভয় পক্ষের প্রতি শান্তির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শিশুদের দুর্ভোগে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।
গাজা উপত্যকায় চলমান সহিংসতায় হাজার হাজার শিশু আহত, উদ্বাস্তু ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সেখানে কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ, বিশেষ করে সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা ও হামলার কারণে।
পোপ ফ্রান্সিসের ব্যবহৃত একটি সাধারণ গাড়িকে একটি জীবন্ত আশার প্রতীকে রূপান্তরের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এটি তার সহানুভূতিশীল ও মানবতাবাদী নেতৃত্বের এক চিরন্তন স্মারক হয়ে থাকবে, যা গাজার অসহায় শিশুদের মুখে আশার আলো ফোটাবে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, ভালোবাসা আর সহানুভূতির বার্তা যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষেও পৌঁছাতে পারে।
