রাষ্ট্রীয় সফরে কাতারে গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (৩ মে) কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কাতারের সামরিক এবং বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান তাঁর এই সফরে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকগুলোতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিনিময়সহ বিভিন্ন সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আইএসপিআর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের আন্তর্জাতিক সফর আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
এ সফরের অংশ হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ বিভিন্ন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও তিনি কিছু কৌশলগত সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে, যা ভবিষ্যতের যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি রচনায় সহায়ক হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গিয়েছিলেন। রাশিয়ায় তিনি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল বিষয়ে আলোচনা করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কাতারে সফর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও, যা বাংলাদেশ ও কাতারের সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, “এই ধরনের সফর শুধু সামরিক বন্ধুত্ব নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এটি আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা যোগাযোগকে আরও সম্প্রসারিত করবে।”
সফর শেষে সেনাবাহিনী প্রধান আগামী ৫ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। এই সফর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বহুমাত্রিক সহযোগিতার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
