আসছে বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট: অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ, ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজের আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার

বাজেট সংক্রান্ত প্রতিবেদন

আগামী অর্থবছরের জন্য একটি বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট উপস্থাপন করবে অন্তর্বর্তী সরকার—এমন ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অর্থনীতিবিদ আসিফ মাহমুদ এই তথ্য প্রকাশ করেন। অর্থ উপদেষ্টার বরাতে তিনি জানান, বাজেটে অপ্রয়োজনীয় কোনো ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না এবং ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি বাস্তবধর্মী ও ব্যয়-সচেতন বাজেট তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অলাভজনক খাতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির নীতিতে অটল রয়েছে সরকার।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই বাজেট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় তৈরি করা হচ্ছে। আমরা চাই বাজেট বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা অংশীদার হোন।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বাজেট হতে হবে দক্ষ, গ্রহণযোগ্য এবং প্রয়োগযোগ্য। আমরা মেগা প্রকল্পের চাপ নয়, জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে গুরুত্ব দিচ্ছি।”

পটভূমি: বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এটি হতে যাচ্ছে প্রথম বাজেট। নির্বাচনোত্তর সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাজেটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সাহায্যের অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করেছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই এবারের বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের আকার হবে তুলনামূলকভাবে সংযত, এবং সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাছাইয়ে ‘মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা’কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

“বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের প্রতিশ্রুতি ভালো লক্ষণ। তবে বাজেট বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সক্ষমতা, দুর্নীতিনিরোধ এবং নীতি-স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” — ড. শামসুল আলম, অর্থনীতি বিশ্লেষক

বাজেটকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা ও শঙ্কা দুইই কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই বাস্তবধর্মী বাজেট পরিকল্পনা যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

Next News Previous News