কাশ্মীরে পর্যটক হত্যাকাণ্ড: চার হামলাকারী এখনও জঙ্গলে, অনুসন্ধানে এনআইএ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পর্যটক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত চারজন হামলাকারী এখনও দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলে লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারীরা আগেই জঙ্গলে আত্মগোপনের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ মজুত করে রেখেছিল।
কাশ্মীরের পেহেলগামে এক পর্যটক বাসে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন, যা অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিককালের অন্যতম নৃশংস হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ হামলার পর থেকেই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান জোরদার করেছে।
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত পরিচালনা করছে। এনআইএর এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হামলাকারীরা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে পরিকল্পনা করেই হামলা চালিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, তারা অন্তত চারজন এখনো দক্ষিণ কাশ্মীরের দুর্গম জঙ্গলে অবস্থান করছে। তারা সেখানে খাবার, ওষুধ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম আগে থেকেই মজুদ করে রেখেছে।”
তিনি আরও জানান, “এ ধরনের প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট, এটি তাৎক্ষণিক বা বিচ্ছিন্ন কোনো হামলা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত।”
পটভূমি: গত সপ্তাহে পেহেলগামে পর্যটকদের বহনকারী একটি বাসে অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। এ ঘটনার পরপরই কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
পেহেলগাম কাশ্মীরের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র, যা প্রতি বছর হাজারো দেশি ও বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। এ ধরনের হামলা কেবল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
“এই ধরনের সুপরিকল্পিত হামলা শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং এতে উপত্যকার স্থিতিশীলতা ও পর্যটনখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হামলাকারীদের ধরতে সক্ষম না হলে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটার ঝুঁকি থেকেই যায়।” — মোহাম্মদ সাজ্জাদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক
কাশ্মীরে বারবার নতুন করে সহিংসতা ও চরমপন্থী তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পেহেলগামের এই হত্যাকাণ্ড তদন্তে এনআইএর অগ্রগতি এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তার কত দ্রুত সম্ভব হয়, সেটিই এখন নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে।
