বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ সমাবেশ, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবি জানাল বিরোধী দল
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম গেট এলাকায় শুক্রবার (২ মে) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিল করে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানায় একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বক্তারা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে 'অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা ও ক্ষমতায় টিকে থাকার' অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশটি দলটির পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকার বারবার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রেখেছে। সেই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “তিনটি জাতীয় নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালে যে পদ্ধতিতে ভোটহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এর বিচার চাই, দায়ীদের শাস্তি চাই, এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ আজ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণে পরিণত হয়েছে। যারা এই অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিচার একদিন হবেই।”
পটভূমি: ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক ছিল প্রবল। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে আসছে, এসব নির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ, বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল এবং ভোটের দিন সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময়ও প্রধান বিরোধী দলসহ কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জন করে। তবে আওয়ামী লীগ সবসময় অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং দাবি করেছে, তারা জনগণের রায়ের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
“সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি যেন জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।” — ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা
আন্দোলনরত দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নির্বাচনী অনিয়ম ও ‘অবৈধ সরকারের’ বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের দাবি ও বিক্ষোভ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই দাবিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয় কি না।
