বিদেশি চলচ্চিত্রে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ: জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা

News Report

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব বিদেশি নির্মিত চলচ্চিত্রের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, হলিউড দ্রুত পতনের মুখে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে এ ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।

মূল বিবৃতি ও সিদ্ধান্ত

সোমবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “হলিউড নিজস্ব ভারেই ধ্বংসের পথে। বিদেশি চলচ্চিত্রগুলো আমাদের বাজারে ভিড় করে পড়ছে, আমাদের শিল্প ও মূল্যবোধকে দুর্বল করছে। এটি শুধুই বিনোদনের বিষয় নয় — এটি আমেরিকার আত্মাকে রক্ষা করার প্রশ্ন।”

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত সব চলচ্চিত্রে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই এই নীতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

ন্যাশনাল সিনেমা অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী জুলিয়া অ্যান্ডারসন বলেন, “এটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। হলিউডকে রক্ষার উদ্দেশ্য থাকলেও এর ফলে প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কমে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আমেরিকান দর্শকদের ক্ষতিই করবে।”

ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী এলিজাবেথ মার্টিন একে “সৃষ্টিশীল সহযোগিতার বিপরীতে প্রতিক্রিয়াশীল ও রক্ষণশীল পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যা দেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক রাজীব ভার্মা মন্তব্য করেন, “শিল্প কোনো সীমানা মানে না। এই সিদ্ধান্ত আমেরিকান দর্শকদের বৈশ্বিক গল্প থেকে বঞ্চিত করতে পারে।”

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

গত কয়েক বছর ধরে হলিউডকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে — বক্স অফিসে রাজস্ব হ্রাস, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান। ২০২৪ সালের মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা হলে চলা মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশই ছিল বিদেশি চলচ্চিত্র থেকে, যা এক দশক আগেও ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।

ট্রাম্প এর আগেও বিদেশি ও কিছু অভ্যন্তরীণ চলচ্চিত্রে “অ্যnti-American” বার্তার অভিযোগ এনেছেন। ২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে তিনি বিনোদন শিল্পকে “এলিটদের বিচ্ছিন্ন বলয়” বলে আক্রমণ করেছিলেন।

নীতিমালার বিবরণ

ঘোষণা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি চলচ্চিত্রের ওপর পূর্ণ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে করে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে বিদেশি স্টুডিওদের দ্বিগুণ খরচ হবে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দেশীয় চলচ্চিত্র প্রযোজকদের জন্য কর রেয়াতসহ প্রণোদনার একটি প্যাকেজ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য ‘আমেরিকান সিনেমার নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা’।

উপসংহার

এই নীতিগত রদবদলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস এবং বৈশ্বিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন একে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে শিল্প-সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Next News Previous News