হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার দাবি: মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস কার্ল ভিনসন’ আরব সাগরে টার্গেট

সংবাদ প্রতিবেদন

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস কার্ল ভিনসন’ ও এর সঙ্গী যুদ্ধজাহাজগুলোতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ এপ্রিল) হুতি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মিডেল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি মুখপাত্র বলেন,

“আমাদের সশস্ত্র ড্রোন ইউনিট সফলভাবে আরব সাগরে মার্কিন শত্রুদের যুদ্ধজাহাজগুলোতে আঘাত হানে। এই হামলা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ইউএস নেভির প্যাসিফিক ফ্লিটের এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা Reuters-কে বলেন,

“আমরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সব ধরনের হুমকির প্রতি সতর্ক রয়েছি। আমাদের বাহিনী নিরাপদ এবং তাদের মিশন চালিয়ে যাচ্ছে।”
পটভূমি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সাল থেকে সৌদি আরব ও পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। সম্প্রতি গাজা সংকট ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, এবং হুতিরা এর আগে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে পশ্চিমা জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লেইলা হাবিব এই ঘটনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন,

“এই হামলার দাবি সত্য হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য একটি বড় ধরনের বার্তা। এটি হুতিদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও ইঙ্গিত দেয়।”
প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন,

“এই ধরনের হামলার দাবি সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আমরা সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার এমন বৃদ্ধি বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ চেইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসংহার

হুতিদের এই হামলার দাবির সত্যতা যাচাই করা এখনো সম্ভব না হলেও এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও গভীর ও বিপজ্জনক করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হচ্ছে এই উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সকল পক্ষকে উৎসাহিত করা।

Next News Previous News