পাকিস্তানের পূর্ণমাত্রার সামরিক মহড়া সীমান্তে, এলওসি ঘিরে নতুন উত্তেজনা
ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (১ মে) পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) সংলগ্ন এলাকায় পূর্ণমাত্রার সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এ মহড়ায় অংশ নেয় শতাধিক ট্যাংক, ভারী কামান ও অস্ত্রধারী সেনারা। মহড়ায় ব্যবহৃত হয় তাজা গুলিও, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখযোগ্য সামরিক প্রদর্শন
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন,
“এটি ছিল আমাদের নিয়মিত বার্ষিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সীমান্ত সুরক্ষায় প্রস্তুতির মান যাচাই করা। ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ মহড়াকে ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ’ করার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন,
“আমরা সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক গতিবিধি নিরীক্ষা করছি। ভারতের নিরাপত্তা সুরক্ষায় সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
প্রেক্ষাপট: এলওসি-তে পুরনো উত্তেজনা
এলওসি বা লাইন অব কন্ট্রোল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্ত বরাবর অবস্থিত একটি সাময়িক সীমারেখা। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে একাধিক যুদ্ধে জড়ানোর পর, ২০০৩ সালে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, এই সীমান্ত বরাবর প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের এই মহড়া এমন সময় হলো যখন কাশ্মীর ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল। সম্প্রতি ভারত শ্রীনগরে একটি নতুন সামরিক রাডার স্থাপন করেছে, যেটিকে পাকিস্তান স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছে।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
দক্ষিণ এশিয়া নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক সায়েম আখতার বলেন,
“যখন দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে এমন সামরিক প্রদর্শন শুরু হয়, তখন শুধু সীমান্ত নয়, গোটা অঞ্চলেই অস্থিরতা বাড়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উভয়পক্ষকে সংলাপে আনয়নের চেষ্টা করা।”
এদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ উভয় দেশকেই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
উপসংহার: সংলাপ না উত্তেজনা?
যদিও পাকিস্তান এই মহড়াকে "আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়ন" হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, তবুও এলওসি-র মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে এর সময় ও মাত্রা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ইতিহাস বিবেচনায়, এমন সামরিক প্রদর্শন ভবিষ্যতের জন্য আরো অনিশ্চয়তা ও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
