খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফিরছেন ৬ মে, নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (৬ মে) লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরছেন। সকাল সাড়ে ১০টায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তার আগমন উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
খালেদা জিয়া গত কয়েক মাস ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে বিদায় জানিয়েছেন তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় পৌঁছানোর পর দলের নেতাকর্মীরা তাকে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভ্যর্থনা জানাবেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তার সঙ্গে থাকছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও নিকটজনেরা।
“আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার সুস্থতা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য আমরা দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।”
— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহাসচিব, বিএনপি
“মা’র চিকিৎসা শেষ পর্যায়ে। আমরা আশাবাদী তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীর মধ্যে তার প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য আজ স্পষ্ট।”
— তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপি
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২০২১ সালের পর থেকে তাকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না পেলেও, সরকারের বিশেষ বিবেচনায় তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নিতে যান। দলের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়েছে, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো জরুরি ছিল।
খালেদা জিয়ার দেশে প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। সামনে জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকায় তার উপস্থিতি দলের নেতৃত্বে দৃঢ়তা আনবে বলে দলটির নেতাকর্মীদের আশা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার ফিরে আসা কেবল আবেগ নয়, বরং রাজনীতির পরবর্তী ধাপেও তা একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
