অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে অর্থ সহায়তার ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের নিজ দেশে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় বহনসহ এক হাজার মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করে।
এই নতুন কর্মসূচির আওতায় অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে সরকার তাদের ফ্লাইটসহ ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচ বহন করবে এবং এককালীন এক হাজার মার্কিন ডলার দেবে।
এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে “স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন সহায়তা প্রকল্প” (Voluntary Departure Incentive Program)।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে আনুমানিক এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়, যাদের অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থানে জড়িত থাকলেও বৈধতা পাননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
“আমরা মানবিক উপায়ে অবৈধ অভিবাসন সমস্যার সমাধান চাই। যারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য এটা একটি সুযোগ,” বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। “এতে আমরা জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কমিয়ে আনতে পারব এবং অভিবাসীদের জন্য একটি সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে পারব।”
অভিবাসন বিষয়ক মানবাধিকার সংস্থা ‘আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’-এর মুখপাত্র এলেনা রিভেরা বলেন, “এই পরিকল্পনার আর্থিক প্রণোদনা ইতিবাচক শোনালেও, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। অভিবাসীদের জন্য প্রকৃত সমাধান হলো দীর্ঘমেয়াদি বৈধতার পথ উন্মুক্ত করা, শুধুমাত্র প্রস্থান নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৭ সাল থেকে কড়াকড়ি নীতিমালার মাধ্যমে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্র্যাভেল ব্যান’, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ, এবং ডিএসিএ (DACA) নীতিতে পরিবর্তন আনা। তবে সমালোচকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ অনেক অভিবাসী পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন সহায়তা’ কর্মসূচি অভিবাসন নীতিতে একটি ব্যতিক্রমী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রণোদনার মাধ্যমে অভিবাসীদের ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। যদিও এই উদ্যোগ কিছু অভিবাসীর জন্য সহায়ক হতে পারে, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অভিবাসন সমস্যার একটি আংশিক ও সাময়িক সমাধান মাত্র। এখন দেখার বিষয়, প্রকৃতপক্ষে কতজন অভিবাসী এই প্রস্তাবে সাড়া দেন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হয়।
