রাখাইনে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ১০ জন আটক, কোস্ট গার্ডের অভিযানে বড় চোরাচালান রুখে দেওয়া হলো

ইউরিয়া সার পাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে অবৈধভাবে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে পাচারকালে ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ১০ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (১ মে) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি কাঠের ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি জানান, “বৃহস্পতিবার ভোরে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শিকলপাড়া ঘাট এলাকায় সন্দেহজনক একটি ট্রলার থামিয়ে তল্লাশি চালায়। ট্রলারটিতে ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়, যেগুলোর গন্তব্য ছিল মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “ইউরিয়া সার কেবল কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ভর্তুকির আওতায় দেশের কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। এই সার দেশের বাইরে পাচার হলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেশের কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

আটকদের নাম ও পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তারা টেকনাফ ও পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পটভূমি: বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে চোরাচালানের অন্যতম প্রধান পণ্য ইউরিয়া সার, যেটি মাদক ও বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার নাফ নদী হয়ে পাচারের সময় ইউরিয়া সার, ডিজেল, চাল এবং অন্যান্য ভর্তুকি দেওয়া পণ্য জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাচারের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

“প্রায়ই রাতে নদীপথে ট্রলার চলাচল করে। এলাকার সাধারণ মানুষ এটা দেখেও কিছু বলতে পারে না। এই ধরনের অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড সাহসী ভূমিকা রাখছে।” — শিকলপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এই সফল অভিযানে বৃহৎ পরিসরের একটি পাচারচক্রের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পাচার রোধে আরো কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। পাচার বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধ হবে না বলেই মনে করেন তারা।

Next News Previous News