তারেক রহমান: রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচন করা সংসদের কাজ

রোহিঙ্গা করিডর বিষয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডর গঠনের বিষয়ে জনগণ বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অবশ্যই নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নেওয়া উচিত, বিদেশী শক্তির ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে নয়।

রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় শ্রমিকদলের আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এই বক্তব্য দেন। সমাবেশটি মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়।

“সরকার বিদেশি চাপে পড়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। রোহিঙ্গা মানবিক করিডর গঠনের সিদ্ধান্ত কাদের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, সেটা পরিষ্কার নয়। দেশের জনগণের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য—এই তিনটি বিষয়েই গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি সিদ্ধান্ত জনগণের অজান্তে নেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী’ এবং এ নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়াটাও উদ্বেগজনক।

জাতীয় শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের উপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মানবিক করিডরের নামে যদি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর স্থানান্তর বা স্থায়ী বসবাস নিশ্চিত করা হয়, তাহলে স্থানীয় জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে পড়বে।”

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

পটভূমি

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থী কক্সবাজার ও এর আশপাশের অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে আহ্বান জানালেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি জানা যায়, জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা ও কিছু পশ্চিমা রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘মানবিক করিডর’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে, যা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চলছে।

তারেক রহমানের বক্তব্য এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকার এ বিষয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যার সমাধান হতে হবে জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

Next News Previous News