পশ্চিম জেরুজালেমের পাহাড়ে দ্বিতীয়দিনের মতো জ্বলছে দাবানল, আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০০টি দল কাজ করছে
পশ্চিম জেরুজালেমের পাহাড়গুলোতে চলমান দাবানল আজ বৃহস্পতিবার (১ মে) দ্বিতীয় দিনে প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে ১০০টিরও বেশি অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগের দিনের তুলনায় আজ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও, কিছু স্থান এখনও অগ্নিদগ্ধ, এবং অব্যাহত রয়েছে আন্তর্জাতিক সহায়তা। ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ অগ্নিনির্বাপক বিমান পাঠানো হয়েছে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গতকাল, ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ইসরায়েলের পশ্চিম জেরুজালেমের পাহাড়ি অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। বাতাসের গতি এবং শুকনো আবহাওয়ার কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, আগুন এখন পর্যন্ত কয়েক একর বনভূমি এবং পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকাগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দলের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এই দলগুলোতে স্থলবাহিনীর পাশাপাশি আকাশপথে সহায়তা প্রদানকারী বিমানও রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং আগুনের তীব্রতা কারণে কাজটি খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আজ কিছু এলাকায় আগুন কমে আসলেও, এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
"গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগুন যাতে আরও বিস্তার না পায়, তা নিশ্চিত করা। পরিস্থিতি কঠিন, তবে আমরা যা সম্ভব তা করছি।" - লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমোস লেভি, অগ্নিনির্বাপণ প্রধান কর্মকর্তা
এছাড়া, এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও এসেছে। ফ্রান্স, স্পেন এবং গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিশেষভাবে অগ্নিনির্বাপক বিমান পাঠিয়েছে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বিমানগুলো বায়ু থেকে জল ঝরিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, "আমাদের ইউরোপীয় বন্ধুদের সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বিমানের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা আমাদের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে।"
পশ্চিম জেরুজালেমের আশেপাশের এলাকা এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, এবং কিছু স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপত্তার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকার বায়ু গুণগত মান মনিটর করছে, বিশেষ করে ধোঁয়া থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হতে পারে এমন অঞ্চলে।
পটভূমি:
ইসরায়েলে দাবানল নতুন ঘটনা নয়, বিশেষত গ্রীষ্মকালে বা শুকনো সময়ে। ২০২০ সালে এক ধ্বংসাত্মক দাবানল দেশের অনেক অংশকে বিধ্বস্ত করেছিল। তবে, এবার আগুন এমন একটি অঞ্চলে লেগেছে যা জনবহুল এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল সরকার আগুনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেমন আগুন ঠেকানোর জন্য ফায়ারব্রেক এবং আগুন সতর্কতা ব্যবস্থা। তবে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এখনো সম্পূর্ণভাবে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে আগুনের বিস্তার কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সহায়ক দলগুলো নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে আগুনটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও খারাপ হতে পারে, তাই স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার ও উদ্ধারকারী দলগুলি পরবর্তী আপডেট প্রদান করবে যতই পরিস্থিতি উন্নতি বা অবনতি ঘটবে।
